প্রাচীন সভ্যতা বলতে বোঝায় সেইসব উন্নত মানব সমাজকে, যা লিখিত জ্ঞানের সূচনা (প্রায় ৩১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) থেকে শুরু করে প্রাচীন ইতিহাসের দীর্ঘ সময়কালে বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল, যেমন—মেসোপটেমিয়া, মিশর, সিন্ধু, চীন ইত্যাদি, যাদের বৈশিষ্ট্য ছিল নগর গঠন, লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন, পশুপালন, ধাতু ব্যবহার এবং জটিল সামাজিক কাঠামো। এই সভ্যতাগুলো স্থাপত্য, শাসনব্যবস্থা, কৃষি ও প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদান রেখেছে এবং এদের সম্পর্কে জানা যায় প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের মাধ্যমে।
বিভিন্ন প্রাচীন সভ্যতাগুলোর মধ্যে মেসোপটেমিয়া, মিশরীয়, সিন্ধু, চৈনিক, গ্রিক, রোমান, ফিনিশীয়, পারস্য এবং আমেরিকার মায়া ও ওলমেক সভ্যতা উল্লেখযোগ্য, যা কৃষি, নগর পরিকল্পনা, লিখন পদ্ধতি, সামাজিক স্তরবিন্যাস ও রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, যার মূল ভিত্তি ছিল কৃষির ওপর নির্ভরশীলতা ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
- অবস্থান- ইরাক ও সিরিয়া।
- সভ্যতার উৎপত্তিস্থল বলে পরিচিত।
- গড়ে উঠেছিল দজলা ও ফোরাত নদীর তীরে ।
- দজলা ও ফোরাত নদীর বর্তমান নাম যথাক্রমে টাইগ্রিস ইউফ্রেটিস।
- মেসোপটেমিয়া সভ্যতার পর্যায় ছিল ৪ টি; যথা- সুমেরীয়, অ্যাসেরীয়, ব্যবিলনীয় ও ক্যালেডীয় সভ্যতা।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
- মেসোপটেমিয়ার অন্তর্ভুক্ত প্রাচীনতম সভ্যতা নাম- সুমেরীয় সভ্যতা।
- বর্তমান অবস্থান- ইরাক
- কিউনিফর্ম হচ্ছে- সুমেরীয়দের লিখন পদ্ধতি, কিউনিফর্ম লিপিতে ছিল- ৩৯টি বর্ণ ।
- পাটিগণিতের গুণ- পদ্ধতির আবিষ্কার করে সুমেরীয়রা
- সুমেরীয় সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান- ঢাকা আবিষ্কার।
- ‘গিলগামেশ' নামে প্রথম মহাকাব্য রচনা সুমেরীয়রা।
- সুমেরীয় ধর্মে মন্দিরকে বলা হতো- জিগুরাত।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
- ব্যাবিলন ইরাকে অবস্থিত।
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতার স্থপতি- আমেরাইট নেতা হাম্মুরারী।
- পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম আইন প্রণয়ন করেন- রাজা হাম্মুরারী
- হাম্মুরাবীর সময়কালকে স্বর্ণ যুগ বলা হত।
- সর্বপ্রথম পঞ্জিকা প্রচলন ।
- ব্যাবিলনের শূন্য বা ঝুলন্ত উদ্যান- ইরাকে অবস্থিত।
- 'ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান' গড়ে তুলেছিলেন সম্রাট নেবুচাদ নেজার
- সর্বপ্রথম পঞ্জিকার প্রচলন হয় ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়।
- ব্যাবিলনীয়দের প্রধান দেবতার নাম- মারডক
- পৃথিবীর প্রাচীনতম মানচিত্র আবিষ্কৃত হয় ব্যাবিলন শহরের- গাথুর ধ্বংসাবশেষ থেকে।
- যুদ্ধে সর্বপ্রথম লোহার অস্ত্র ব্যবহার ।
- ইতিহাসে অ্যাসেরীয়রা সামরিক রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিত
- সর্বপ্রথম পৃথিবীকে অক্ষাংশে ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেন-অ্যাসেরীয়রা।
- ৩৬০° ডিগ্রীতে বৃত্ত আবিষ্কার করে- অ্যাসেরীয়রা।
- পৃথিবীর ইতিহাসে অ্যাসেরীয় সভ্যতার লোকেরা প্রথম গোলন্দাজ বাহিনী গঠন করে।
- বর্তমান অবস্থান- ইরাক।
- রাজা নেবুচাদ নেজার কর্তৃক ব্যবিলনের শূন্য/ঝুলন্ত উদ্যান তৈরি
- ৭ দিনে সপ্তাহ গণনা শুরু করেন- ক্যালেডীয়রা।
- প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘন্টায় ভাগ করে ক্যালেডীয়রা।
- সর্বপ্রথম ১২ নক্ষত্র পুঞ্জের সন্ধান পান- ক্যালডীয়রা।
- ক্যালেডীয় দের প্রধান দেবতা জুপিটার।
- ধাতব মুদ্রার আবিষ্কার হয়- ক্যালেডীয় সভ্যতায়।
- ক্যালেডীয় সভ্যতার অপর নাম- নতুন ব্যাবিলনীয় সভ্যতা ।
- মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছে- নীল নদের তীরে।
- মিশরকে নীল নদের দান বলে অভিহিত করেছেন- হেরোডোটাস
- খুফুর পাথরের তৈরি সিংহমূর্তি- স্ফিংস।
- ১২ মাসে ১ বৎসর, ৩০ দিনে ১ মাস গণনারীতি চালু
- প্রাচীন মিশরীয় রাজাদের বলা হত- ফারাও।
- নীল নদের দেবতার নাম ছিল- ওসিরিস।
- প্রাচীন মিশরীয় সমাজ ছিল- মাতৃতান্ত্রিক
- মিশরীয়দের লিখন পদ্ধতির নাম- হায়ারোগ্লিফিকস ।
- মিসরীয়রা প্যাপিরাস নামক এক প্রকার গাছ দিয়ে লিখত।
- পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন কীর্তিস্তম্ভ- পিরামিড।
- ক্লিওপেট্রা ছিলেন মিশরের রাণী।
- ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা হয়- মিশরীয়দের।
- অবস্থান- পাকিস্তান।
- আবিষ্কার- ১৯২২ সালে।
- দ্রাবিড় জাতি কর্তৃক সিন্ধু সভ্যতার প্রতিষ্ঠা।
- তাম্র যুগের সভ্যতা।
- সিন্ধু নদের তীরে গড়ে উঠে।
- আবিষ্কৃত দু'টি নগর হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো।
- বড় অবদান পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থার উদ্ভাবনে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
- বর্তমান অবস্থান- লেবানন ।
- সভ্যতায় ফিনিশীয়দের অবদান- ২২টি বর্ণমালার (ব্যঞ্জনবর্ণ) উদ্ভাবন
- ফিনিশীয় সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান বর্ণমালা
- উদ্ভাবন বা লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার।
- ফিনিশীয় সভ্যতার বর্ণমালা গুলোর সাথে বর্তমান কালের ব্যঞ্জনবর্ণের মিল রয়েছে।
- ব্যবসা-বাণিজ্য ও নৌকা তৈরিতে ফিনিশীয়দের বিশেষ অবদান ছিল।
- প্রাচীনকালে পারস্য নামে পরিচিতি ছিল- বর্তমান ইরান।
- পারস্য সভ্যতার অপর নাম- একমেনিড ।
- পারস্য ধর্মের নাম- জরথুস্টবাদ।
- পারসিক ধর্মের প্রবর্তন করেন- সম্রাট জরখৃস্ট।
- দারিয়ুস ছিল- পারস্যের সফল শাসক।
- দিনপুঞ্জি তৈরী করে- পারস্যরা।
- অবস্থান- ইসরাইল ও ফিলিস্তিন।
- হিব্রু সভ্যতা জেরুজালেম নগরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে।
- হিব্রু মূলত ভাষার নাম, অর্থ যাযাবর বা নিম্ন শ্রেণি ।
- প্রধান ধর্মীয় নেতা- হযরত মূসা (আ)।
- বাইবেলের ভাষা হিব্রু এবং Old Statement এ বিশ্বাসী।
- পৃথিবীর প্রাচীন ভাষা- হিব্রু ভাষা।
- হিব্রু জাতি বর্তমানে ইজরাইলে বসবাস করে।
- হিব্রু একটি সেমাটিক ভাষা।
- হিব্রু সভ্যতার অবদান- ধর্ম প্রচার।
- অবস্থান- চীন।
- হোয়াংহো ও ইয়ংসিকিয়াং নদীর তীরে গড়ে উঠে।
- আধুনিক আমলাতন্ত্রের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা।
- চীনের দার্শনিক ছিলেন কনফুসিয়াস।
- চীনের মহাপ্রাচীর :
☞ প্রাচীরের দৈর্ঘ্য: পরিখা, প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকসহ ৮৮৫০ কি.মি. [৫৫০০ মাইল] । প্রকৃত প্রাচীরের দৈর্ঘ্য ৬২৬০ কি.মি. (৩৮৯০ মাইল ]
☞ অবস্থান: চীনের উত্তর সীমান্তে অবস্থিত।
☞ নির্মাণকাল: খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী-ষোড়শ শতাব্দী । কিন শাসনামলে [ খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী-খ্রিস্টপূর্ব ২২১ অব্দ ] মিনগ শাসনামলে [১৪৪০-১৪৬০ খ্রিস্টাব্দ]
☞ মনুষ্য নির্মিত সর্ববৃহৎ স্থাপনা।
☞ নির্মাণকালে এ প্রাচীরের দৈর্ঘ্য ছিল ২১,১৮৬.১৮ কি.মি. বা ১৩,১৭০.৭০ মাইল।
☞ ১৯৮৭ সালে চীনের মহাপ্রাচীরটি বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ইজিয়ান সভ্যতা
গ্রিস ও এশিয়া মাইনরকে পৃথক করেছে ইজিয়ান সাগর। এই ইজিয়ান সাগর জুড়ে ছিল ছোট বড় অনেক দ্বীপ। ইজিয়ান সাগরের দ্বীপমালা ও এশিয়া মাইনরের উপকূলে একটি উন্নত নগর সভ্যতা গড়ে উঠে। ইতিহাসে এ সভ্যতা ইজিয়ান সভ্যতা নামে পরিচিত। গ্রিসে সভ্যতা গড়ে তোলার প্রস্তুতিপর্ব ছিল এ সভ্যতা। ১২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ইজিয়ান সভ্যতার পতন ঘটে। গ্রীক কবি হোমারের ইলিয়ড ও ওডিসি থেকে এই সভ্যতার তথ্য পাওয়া যায়।
- গণতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত গ্রিক সভ্যতা।
- প্রথম নগররাষ্ট্র ছিল গ্রীসের এথেন্স ও স্পার্টা
- প্রাচীন অলিম্পিক প্রতিযোগিতার সূচনা হয়- গ্রীসে।
- পৃথিবীর প্রথম মানচিত্র অংকন করেন- গ্রীক বিজ্ঞানরা
- প্রাচীন গ্রীসে নগর রাষ্ট্র ছিল ১৫৮ টি।
- নদীর তীরে গড়ে ওঠেনি- গ্রীক, রোমান ও হিব্রু সভ্যতা।
- 'এরিস্টটল 'লাইসিয়াম' নামে শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন
- সক্রেটিসকে হেমলক নামক বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়।
- Republic প্লেটোর বিখ্যাত গ্রন্থ
- ভৌগোলিক সংস্কৃতির কারণে গ্রিক সভ্যতার সাথে জড়িত- হেলেনিক ও হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি।
- অবস্থান- ইতালি।
- রোমানদের সবচেয়ে বড় অবদান আইনের ক্ষেত্রে।
- প্রধান দেবতা জুপিটার।
- রোমান সভ্যতার গোড়াপত্তনকারী জাতি- ল্যাটিন
- রোমানরাই প্রথম কৃত্রিম জলাধার নির্মাণ করেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
- ইনকা সভ্যতা গড়ে উঠেছিল- বর্তমান পেরুতে।
- দক্ষিণ আমেরিকার সভ্যতাগুলোর সম্মিলিত নাম আন্দীয় সভ্যতা।
- দক্ষিণ আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতা-
ইনকা ও চিমু সভ্যতা
মুইজকা ও কারাল সভ্যতা
- পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতমালা দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা
- ইনকা সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন- মাচু পিচু ।
- ইনকা সভ্যতার সময়কাল ছিল ১৪৩৮ থেকে ১৫৩৩ সাল পর্যন্ত।
- ইনকা সভ্যতার স্থপতি- রাজা মানকে কাপেন ।
- সর্বপ্রথম পানির সাহায্যে সেচ পদ্ধতির আবিষ্কার করে- ইনকারা
- ইনকা সভ্যতার সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন-মাচুপিচু (পৃথিবীর সপ্তম আশ্চার্য)